যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপলিসে এক রাজনৈতিক সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমার হামলার শিকার হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাতে এক টাউন হল সভায় তিনি যখন ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতি ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের কঠোর সমালোচনা করছিলেন, তখন এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সভার মাঝপথে এক অজ্ঞাত ব্যক্তি ওমারের পডিয়ামের দিকে দ্রুত এগিয়ে আসে এবং তার ওপর এক ধরনের স্বচ্ছ তরল পদার্থ স্প্রে করে। নিরাপত্তা কর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে হস্তক্ষেপ করে হামলাকারীকে নিরস্ত করতে সক্ষম হন। ইলহান ওমার এই ঘটনায় কিছুটা আতঙ্কিত হলেও সৌভাগ্যবশত কোনো ধরনের শারীরিক আঘাত পাননি।
হামলার পর সাময়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লেও ইলহান ওমার অদম্য সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে পুনরায় বক্তব্য প্রদান অব্যাহত রাখেন। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেন, কোনো বাধাই তাকে কথা বলা থেকে বিরত রাখতে পারবে না এবং তারা এই ধরনের হামলাকারীদের সুযোগ দেবেন না।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, মিনেসোটার মানুষ যথেষ্ট শক্তিশালী এবং তারা যে-কোনো বৈরী পরিস্থিতি মোকাবিলা করার সামর্থ্য রাখেন। মিনিয়াপলিস পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ঘটনাস্থল থেকেই হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করেছে এবং এই ঘটনার নেপথ্যে কোনো গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখছে।
এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেস সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কোর্টেজ। তিনি মন্তব্য করেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সাম্প্রতিক উসকানিমূলক ও কড়া সমালোচনার পর ইলহান ওমারের ওপর এই ধরনের হামলা দুর্ভাগ্যজনকভাবে নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
আলেকজান্দ্রিয়ার মতে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করার এই সংস্কৃতি জননিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে। অন্যদিকে, আমেরিকার শীর্ষস্থানীয় মুসলিম নাগরিক অধিকার সংস্থা সিএআইআর এই হামলাকে স্পষ্ট বর্ণবাদী এবং ‘ইসলামফোবিক’ উসকানির ফল হিসেবে অভিহিত করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।
অভিবাসন নীতি নিয়ে ইলহান ওমারের সরব অবস্থান এবং বর্তমান প্রশাসনের সঙ্গে তার রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে তিনি এর আগেও নানা সময়ে হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন। তবে এবারের প্রকাশ্য সভায় এই হামলার ঘটনা মিনেসোটার রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
ঘটনার পর থেকে ইলহান ওমারের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ তরল পদার্থটি পরীক্ষা করে দেখছে এটি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কি না। এই হামলার ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা সংহতি প্রকাশ করে ওমারের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
মন্তব্য করুন