বগুড়া-২ আসন
বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে বিএনপির সঙ্গে নাগরিক ঐক্যর সমঝোতা হয়নি। ফলে এ আসনে বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র সাতজন প্রার্থী হলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও নাগরিক ঐক্যর প্রার্থীর মধ্যে। ত্রিমুখী লড়াইয়ে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীরা জয়লাভের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর (দাঁড়িপাল্লা) আবুল আজাদ মোহাম্মদ শাহাদুজ্জামান, নাগরিক ঐক্যর (কেতলি) মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপির (ধানের শীষ) মীর শাহে আলম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের (হাতপাখা) মো. জামাল উদ্দিন, স্বতন্ত্র (সিঁড়ি) রেজাউল করিম তালু, গণঅধিকার পরিষদের (ট্রাক) সেলিম সরকার ও জাতীয় পার্টির (লাঙ্গল) শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ। রিটার্নিং অফিসার ঋণখেলাপির দায়ে নাগরিক ঐক্যর মাহমুদুর রহমান মান্নার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিলেন। পরে তিনি উচ্চ আদালতের মাধ্যমে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। ২১ জানুয়ারি বুধবার রিটার্নিং অফিসার প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেন। একটি উপজেলা নিয়ে গঠিত বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ৪২ হাজার ১৫৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ এক লাখ ৭১ হাজার ৪৯৭ জন, নারী এক লাখ ৭০ হাজার ৬৫৩ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গ (হিজড়া) ৫ জন।
নির্বাচন অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নাগরিক ঐক্যর সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না চারটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন দলের হয়ে অংশগ্রহণ করে পরাজিত হন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে তিনি জনতা মুক্তি পার্টি (কাস্তে) থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দুই হাজার ১৮০ ভোট পান। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থী হয়ে ভোট পেয়েছিলেন ১৯ হাজার ৮৭১টি, ২০০১ সালে নৌকার প্রার্থী হয়ে ভোট পান ৩৬ হাজার ৭৫০। সর্বশেষ ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি জোট থেকে ধানের শীষের প্রার্থী হয়ে ভোট পান ৬২ হাজার ৩৯৩টি।
ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনটি মূলত বিএনপির। নাগরিক ঐক্যর সঙ্গে জোট না হওয়ায় বিএনপি থেকে এবার শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মীর শাহে আলমকে প্রার্থী করা হয়েছে। নাগরিক ঐক্যর মাহমুদুর রহমান মান্না শেষ পর্যন্ত নিজ দলীয় প্রতীক কেতলি নিয়ে মাঠে রয়েছেন। জামায়াতের আবুল আজাদ মোহাম্মদ শাহাদুজ্জামান দাঁড়িপাল্লা। বিগত তিনটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জোটের জাতীয় পার্টির প্রার্থী শরিফুল ইসলাম জিন্নাহও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ আসনে মোট সাতজন প্রার্থীর মধ্যে মূল প্রার্থী চারজন। জাপা প্রার্থী জিন্নাহ বেশ কয়েকটি মামলা নিয়ে আÍগোপনে আছেন। তাই এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা ও কেতলি প্রার্থীর মধ্যে। ভোটাররা বলছেন, এ তিন প্রার্থীর মধ্যে এবার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।
নাগরিক ঐক্য বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা শাখার আহ্বায়ক শাহিদুল ইসলাম জানান, বিএনপি তাদের ‘ইগনোর’ করেছে। তারা জনপ্রিয় নেতা মাহমুদুর রহমান জোটে নেওয়ার কথা বলেও শেষ পর্যন্ত অঙ্গীকার থেকে সরে গেছে। তাই মান্না এবার কেতলি নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। শাহিদুল ইসলাম দাবি করেন, এলাকায় বিগত কয়েক বছরে মান্নার জনপ্রিয়তা অনেক বেড়েছে। তাই প্রতিদ্বন্দ্বী যেই হোক না কেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট হলে মান্না বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন।
ধানের শীষের প্রার্থী মীর শাহে আলম জানান, তিনি দীর্ঘদিন এলাকার মাটি ও মানুষের জন্য কাজ করছেন। এলাকার উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন। অতীতে অনেকে ক্ষমতায় থাকলেও তার মতো উন্নয়ন করতে পারেননি। তাই এবারের নির্বাচনে ভোটাররা চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি আস্থা রেখে ধানের শীষে ভোট দিয়ে তাকে নির্বাচিত করবেন। মান্নাকে জোটে নেওয়া প্রসঙ্গে শাহে আলম বলেন, তিনি (মান্না) নিজেই সরে গেছেন; তাকে কেউ সরায়নি। তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালের পর জোটের অভিশাপমুক্ত হয়ে বিএনপি এককভাবে নির্বাচন করছে। তিনি নির্বাচনে জয়লাভের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।
জামায়াত প্রার্থী মাওলানা আবুল কালাম শাহাদাতুজ্জামান জানান, তিনি ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসন থেকে বিপুল ভোটে এমপি নির্বাচিত হন। ওই সময় তিনি এলাকার উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছিলেন। এরপর এমপি না হলেও ভোটার তথা আসনের জনগণের সুখে-দুঃখে পাশে থেকেছেন। তাই এলাকার ভোটাররা জামায়াতে ইসলামীকে পছন্দ ও ভালোবাসে। তিনি আশা করেন, এবারের নির্বাচনে জনগণ দলমত নির্বিশেষে তাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবেন।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বেশ কয়েকটি হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি হয়েছেন। এরপর থেকে তিনি এলাকায় নেই। ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন