ইরান যুদ্ধ প্রমাণ করে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র রাখার সিদ্ধান্ত সঠিক - সমকন্ঠ
বৃহস্পতিবার , ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সমকন্ঠ
২৫ মার্চ ২০২৬, ১:২২ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

ইরান যুদ্ধ প্রমাণ করে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র রাখার সিদ্ধান্ত সঠিক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক নীতিকে আরও কঠোর করার রসদ জুগিয়েছে। পিয়ংইয়ংয়ের সুপ্রিম পিপলস অ্যাসেম্বলিতে দেওয়া এক ভাষণে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন স্পষ্ট জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতি প্রমাণ করে যে পারমাণবিক অস্ত্র ধরে রাখার সিদ্ধান্তই ছিল সঠিক। তিনি ওয়াশিংটনের কর্মকাণ্ডকে ‘রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সন্ত্রাসবাদ এবং আগ্রাসন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। খবর সিএনএনের

কিম জং উন তার ভাষণে উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত ‘মিষ্টি কথা’ বা চাপের মুখে পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ না করে উত্তর কোরিয়া যে পথে হেঁটেছে, তা আজ যৌক্তিক বলে প্রমাণিত। তিনি ঘোষণা করেন, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক মর্যাদা এখন ‘অপরিবর্তনীয়’ বা চিরস্থায়ী। কিমের এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, ভবিষ্যতে ওয়াশিংটনের সাথে কোনো আলোচনা হলেও তা আর ‘নিরস্ত্রীকরণ’ নিয়ে হবে না।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংসের দাবি তুলে দেশটিতে হামলা চালাচ্ছেন, তখন কিম জং উন একে একটি বড় উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। পিয়ংইয়ং মনে করে, যেসব দেশের কাছে পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেই, তারাই মার্কিন সামরিক শক্তির সহজ শিকারে পরিণত হয়। ফলে নিজের অস্তিত্ব রক্ষায় পারমাণবিক অস্ত্রকেই একমাত্র রক্ষাকবচ মনে করছে কিম প্রশাসন।

কেবল অভ্যন্তরীণ শক্তি বৃদ্ধিই নয়, উত্তর কোরিয়া এখন রাশিয়ার সাথে কৌশলগত সামরিক জোট গঠন করেছে। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার সমর্থনে কামানের গোলা, রকেট এবং হাজার হাজার সৈন্য পাঠিয়ে পিয়ংইয়ং বিশ্ব রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছে। বিনিময়ে রাশিয়া থেকে খাদ্য, জ্বালানি এবং স্পর্শকাতর সামরিক প্রযুক্তি পাচ্ছে উত্তর কোরিয়া, যা তাদের অস্ত্রভাণ্ডারকে আরও আধুনিক করতে সাহায্য করছে।

সাম্প্রতিক সময়ে কিম জং উন তার কিশোরী কন্যা কিম জু আয়ে-কে বিভিন্ন সামরিক মহড়ার কেন্দ্রে নিয়ে আসছেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এর মাধ্যমে কিম বিশ্বকে এই বার্তাই দিচ্ছেন যে—উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি কেবল বর্তমানের জন্য নয়, এটি প্রজন্মের পর প্রজন্ম টিকে থাকবে।

কঠোর সুর বজায় রাখলেও কিম জং উন কূটনীতির দরজা একেবারে বন্ধ করে দেননি। তবে তার শর্ত অত্যন্ত পরিষ্কার—যুক্তরাষ্ট্রকে উত্তর কোরিয়াকে একটি ‘পারমাণবিক শক্তিধর দেশ’ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং পিয়ংইয়ংয়ের প্রতি তাদের ‘শত্রুতামূলক নীতি’ ত্যাগ করতে হবে। পরমাণু অস্ত্র ত্যাগ করার কোনো সম্ভাবনা আপাতত নেই বললেই চলে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সৌদি আরবে হামলায় ক্ষুব্ধ পাকিস্তান, মক্কা চুক্তি সক্রিয়ের হুঁশিয়ারি

রিমান্ড শেষে কারাগারে ডন, ঘটনায় তার জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ পেয়েছে সিআইডি

স্পেনে আরও একটি ক্লাব কিনছেন মেসি

ইসরায়েলি বসতির বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞায় ইউরোপের ১২ দেশের সমর্থন

ভয়াবহ বন্যার রেশ কাটতে না কাটতেই তিব্বতে ভূমিকম্প, কেঁপে উঠল নেপালও

হরমুজে এক সপ্তাহে জাহাজ চলাচল কমেছে ২৮ শতাংশ, চলেছে মাত্র ৭৭টি

বিশ্ববাজারে হুহু করে বেড়েই চলেছে জ্বালানি তেলের দাম

যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন ৬জি জোটে যোগ দিল ভারত

ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় সৌদি আরবে আহত ৭৩

ইরানে ছোট গোল আলুর জন্য বড় বিল দিচ্ছেন ট্রাম্প

১০

সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের সম্পদ বিবরণী অনুসন্ধানে দুদকের কর্মকর্তা নিয়োগ

১১

প্যারিসে গ্যাস বিস্ফোরণে দুই বছরের বাংলাদেশি শিশুর মৃত্যু, আহত ৭

১২

পুতিন, ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের ইঙ্গিত দিলো মস্কো

১৩

সংসদ থেকে বিরোধী দলের ওয়াকআউট

১৪

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৬১ বাণিজ্য বাধার মধ্যে ৪৮টির সমাধান

১৫

১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের গাড়িবহরকে লাল কার্ড, ছাত্রদল নেতার দাবি—জনভোগান্তির প্রতিবাদ

১৬

মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানিতে বড় ধস, কমেছে ৩৯ শতাংশ

১৭

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এলাকা ছেড়ে পালালো মার্কিন দুই যুদ্ধজাহাজ

১৮

কবর থেকে পীর শামীমের দেহাবশেষ তুলে দরবারে নিয়ে গেল ভক্তরা

১৯

রাজধানীতে ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪৩৪

২০