ইরানে ২ হাজার লক্ষ্যবস্তুসহ ১৭ রণতরী ধ্বংসের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের - সমকন্ঠ
শুক্রবার , ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সমকন্ঠ
৪ মার্চ ২০২৬, ১১:০৫ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

ইরানে ২ হাজার লক্ষ্যবস্তুসহ ১৭ রণতরী ধ্বংসের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানে সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার দাবি করেছেন, এই বিধ্বংসী হামলায় একটি সাবমেরিনসহ ইরানের অন্তত ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ রণতরী ধ্বংস করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) পোস্ট করা এক ভিডিও বার্তায় কুপার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান যে, চলমান এই বিশাল অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ হাজারের বেশি সেনা, ২০০ যুদ্ধবিমান, দুটি বিমানবাহী রণতরী এবং অসংখ্য বোমারু বিমান সরাসরি অংশ নিচ্ছে। বর্তমানে মার্কিন বাহিনীর সামরিক সক্ষমতা আরও বৃদ্ধির প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অ্যাডমিরাল কুপার আরও দাবি করেছেন যে, মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর ধারাবাহিক আক্রমণে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে তেহরানের শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, লঞ্চার এবং ড্রোন ঘাঁটি ধ্বংস করার মাধ্যমে তাদের সামরিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

কুপারের মতে, নিয়মিত হামলার ফলে ইরানের পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা বর্তমানে লক্ষণীয়ভাবে হ্রাস পাচ্ছে। তিনি জানান যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রতিশোধ নিতে ইরান এখন পর্যন্ত ৫০০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২ হাজারেরও বেশি ড্রোন ছুড়লেও বর্তমানে তারা উৎক্ষেপণ সক্ষমতা নিয়ে বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে।

মার্কিন এই সামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সামগ্রিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে বলেন যে, ‘আমরা দেখছি আমাদের এবং আমাদের সহযোগীদের ওপর আঘাত হানার সক্ষমতা ইরানের দিন দিন কমছে। অন্যদিকে আমাদের সমরশক্তি আরও বাড়ছে।

আমার সামগ্রিক মূল্যায়ন হলো— আমরা আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী লক্ষ্য অর্জনে অনেক এগিয়ে আছি।’ কুপার আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান যে, ইরানের সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে নিখুঁত হামলার কারণে তেহরান এখন তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠন করতে হিমশিম খাচ্ছে। মার্কিন বাহিনীর এই অগ্রযাত্রা ইরানের আঞ্চলিক প্রভাবকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে বলে সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

বর্তমানে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন রণতরী ও যুদ্ধবিমানগুলোর কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। অ্যাডমিরাল কুপারের এই দাবি যদি সত্য হয়, তবে ইরানের নৌবাহিনী ও ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিটগুলো অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। তবে তেহরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত ১৭টি রণতরী ধ্বংসের দাবির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ওয়াশিংটন মনে করছে, তাদের এই বিশেষ অভিযান মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ছায়া শক্তিগুলোর ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি এখন ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে, তারা কি এই বড় ধরনের ক্ষতির পর আবারও পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করবে নাকি কৌশল পরিবর্তন করবে।

সূত্র: আল জাজিরা

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

এআই ব্যবহার করে ক্ষেপণাস্ত্রের সফটওয়্যার তৈরি করেছে হুথিরা

চুক্তি সত্ত্বেও লেবাননে হামলা জোরদার করেছে ইসরায়েল

ইরান-মার্কিন আলোচনা পুনরায় শুরু করতে চেষ্টা চালাচ্ছে পাকিস্তান

কুমারখালীতে সারের ডিলারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

বিশ্বকাপ ফাইনালের ভেন্যু ঘোষণা মরক্কোর, ফিফা বলছে চূড়ান্ত নয় এখনও!

সৌদি আরবে হামলায় ক্ষুব্ধ পাকিস্তান, মক্কা চুক্তি সক্রিয়ের হুঁশিয়ারি

রিমান্ড শেষে কারাগারে ডন, ঘটনায় তার জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ পেয়েছে সিআইডি

স্পেনে আরও একটি ক্লাব কিনছেন মেসি

ইসরায়েলি বসতির বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞায় ইউরোপের ১২ দেশের সমর্থন

ভয়াবহ বন্যার রেশ কাটতে না কাটতেই তিব্বতে ভূমিকম্প, কেঁপে উঠল নেপালও

১০

হরমুজে এক সপ্তাহে জাহাজ চলাচল কমেছে ২৮ শতাংশ, চলেছে মাত্র ৭৭টি

১১

বিশ্ববাজারে হুহু করে বেড়েই চলেছে জ্বালানি তেলের দাম

১২

যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন ৬জি জোটে যোগ দিল ভারত

১৩

ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় সৌদি আরবে আহত ৭৩

১৪

ইরানে ছোট গোল আলুর জন্য বড় বিল দিচ্ছেন ট্রাম্প

১৫

সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের সম্পদ বিবরণী অনুসন্ধানে দুদকের কর্মকর্তা নিয়োগ

১৬

প্যারিসে গ্যাস বিস্ফোরণে দুই বছরের বাংলাদেশি শিশুর মৃত্যু, আহত ৭

১৭

পুতিন, ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের ইঙ্গিত দিলো মস্কো

১৮

সংসদ থেকে বিরোধী দলের ওয়াকআউট

১৯

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৬১ বাণিজ্য বাধার মধ্যে ৪৮টির সমাধান

২০