দীর্ঘদিন ধরে চলা বৈশ্বিক অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তেজনার পর অবশেষে বড় স্বস্তি পেল বিশ্ব অর্থনীতি। ইরানের হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ খুলে দেওয়ার ঘোষণার পরপরই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ১১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণে তেলের দামের এই নাটকীয় পতন লক্ষ্য করা যায়।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার খবরে জ্বালানির দরপতন হয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুড: প্রতি ব্যারেলে ১০.৫৯ ডলার বা ১০.৭ শতাংশ কমে বর্তমান দাম দাঁড়িয়েছে ৮৮.৮০ ডলার। ডব্লিউটিআই ক্রুড: যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুডের দাম ১০.৮০ ডলার বা ১১.৪ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৮৩ ডলারে নেমে এসেছে।
জ্বালানি তেলের দাম কমায় বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হওয়ার আশায় মার্কিন শেয়ারবাজারে সূচকের বড় উত্থান হয়েছে। সিএনএন-এর তথ্যমতে, ৩০ মার্চের পর এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক বর্তমানে সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি হলো বিশ্বের প্রধান জ্বালানি করিডোর। এই পথটি ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকার কারণে এবং যুদ্ধাবস্থায় এটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কায় এতদিন তেলের দাম আকাশচুম্বী ছিল। তবে আজ শুক্রবার ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে প্রণালিটি ‘সম্পূর্ণ খোলা’ রাখার ঘোষণা দেওয়ায় তেলের সরবরাহ নিয়ে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা দূর হয়েছে।
জ্বালানি তেলের এই দাম কমা বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য বড় সুখবর। এতে পরিবহন খরচ এবং পণ্য উৎপাদন ব্যয় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী চলমান মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।
মন্তব্য করুন