ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সশস্ত্র হামলার মাত্র ৬ মাস পর অঞ্চলটিতে আবারও হামলার পরিকল্পনা করছে পাকিস্তান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈয়বা এবং জেইএম। তারা অনুপ্রবেশ, গোয়েন্দা নজরদারি ও সীমান্তের বাইরে রসদ সরবরাহ বাড়িয়েছে। ইতোমধ্যে নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলওসি) ধরে একাধিক এলাকা দিয়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ইউনিট কাশ্মীরে প্রবেশ করেছে। নতুন গোয়েন্দা গোয়েন্দা তথ্য উদ্ধৃত করে বুধবার (৫ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এনডিটিভি এমনটাই বলেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গোয়েন্দা তথ্য অনুসারে, সেপ্টেম্বর মাস থেকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো অনুপ্রবেশ, গোয়েন্দা নজরদারি এবং সীমান্তের বাইরে রসদ সরবরাহ বাড়িয়ে দিয়েছে। পাকিস্তানের স্পেশাল সার্ভিসেস গ্রুপ (এসএসজি) এবং ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই) অপারেটিভদের সহায়তায় এলওসি ধরে অনুপ্রবেশের পথ দিয়ে একাধিক সশস্ত্র ইউনিট জম্মু ও কাশ্মীরে প্রবেশ করেছে বলে জানা গেছে।
সূত্র এনডিটিভিকে জানায়, সন্ত্রাসী শমসেরের নেতৃত্বে লস্কর-ই-তৈবার একটি ইউনিট ড্রোন ব্যবহার করে আকাশপথে নজরদারি চালিয়েছে ও নিয়ন্ত্রণ রেখার দুর্বল ফাঁকগুলো চিহ্নিত করেছে। এটি ইঙ্গিত দেয়, আগামী সপ্তাহগুলোতে সম্ভাব্য হামলা হতে পারে।
গোয়েন্দা মূল্যায়নের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের বর্ডার অ্যাকশন টিমকে (BAT) পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরজুড়ে পুনরায় মোতায়েন করা হয়েছে, যা ভারতীয় অবস্থানগুলোতে সম্ভাব্য সীমান্ত আক্রমণের ইঙ্গিত দেয়। এটি অপারেশন সিন্দুর-পরবর্তী সবচেয়ে সমন্বিত উত্তেজনার একটি, যা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পাকিস্তানের নতুন কৌশল।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মাসে পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে জামাত-ই-ইসলামি, হিজবুল মুজাহিদিনের সিনিয়র সদস্যরা এবং আইএসআই কর্মকর্তারা একত্রিত হয়েছিলেন বলে জানা গেছে। এই বৈঠকগুলোতে সুপ্ত সন্ত্রাসী কোষগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয় এবং অপারেশন সিন্দুরের সময় যে ক্ষতি হয়েছিল, তার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য গোষ্ঠীগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
এনডিটিভি আরও বলছে, নয়াদিল্লির কর্মকর্তারা গোয়েন্দা তথ্যকে ‘গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা’ হিসাবে বর্ণনা করেছেন। তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো উত্তরাঞ্চলীয় কমান্ড সেক্টরগুলোতে উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।
মন্তব্য করুন