৯ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত - সমকন্ঠ
বুধবার , ১৭ জুন ২০২৬
সমকন্ঠ
১৪ অক্টোবর ২০২৫, ১০:৩৯ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

৯ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে—এ রকম ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) বেশির ভাগই গ্রাহকের টাকা ফেরত দিতে পারছে না। দীর্ঘদিন ধরেই এসব প্রতিষ্ঠান সমস্যায় রয়েছে; যে কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকের টাকা ফেরত দিতে পারছে না।

এসব কারণে প্রাথমিকভাবে আওয়ামী লীগ আমলে ব্যাপক লুটপাটের শিকার ৯টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

শুধু ব্যক্তির আমানত নয়, বড় অঙ্কের প্রাতিষ্ঠানিক আমানতও আটকে আছে দুর্বল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে। একীভূত হতে যাওয়া পাঁচ ব্যাংকের কাছেই বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পাওনা ৩৭ হাজার কোটি টাকার স্থায়ী আমানত (এফডিআর)। এর বাইরে আরও অনেক দুর্বল ব্যাংকের কাছে আটকে আছে বিপুল অঙ্কের এফডিআরের টাকা, যা ফেরত দিতে পারছে না । ইতোমধ্যে দুর্বল পাঁচ ব্যাংককে মার্জার বা একীভূত করার কাজ প্রায় চূড়ান্ত। এদিকে দুর্বল ২০টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে (এনবিএফআই) আটকে আছে ১৬ হাজার কোটি টাকার বেশি প্রাতিষ্ঠানিক এফডিআর। এর মধ্যে অতি দুর্বল ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের কাছে পাওনা ১০ হাজার ১৮৫ কোটি টাকা, ইউনিয়ন ব্যাংকের কাছে ৮ হাজার ৬৩১ কোটি, এক্সিম ব্যাংকের কাছে ৮ হাজার ১৫৭ কোটি, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের কাছে ৫ হাজার ৭৯১ কোটি এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের কাছে পাওনা ৪ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকা। এছাড়া পদ্মা ব্যাংকসহ আরও অনেক দুর্বল প্রতিষ্ঠান তাদের প্রাতিষ্ঠানিক আমানত ফেরত দিতে পারছে না। শুধু তাই নয়, ২০টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানও ১৬ হাজার ৩৬৭ কোটি টাকার প্রাতিষ্ঠানিক আমানত ফেরত দিতে পারছে না।

সে কারণে প্রাথমিকভাবে আওয়ামী লীগ আমলে ব্যাপক লুটপাটের শিকার ৯টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আমানতকারীর টাকা ফেরত দিতে না পারা, উচ্চ খেলাপি ঋণ ও মূলধন ঘাটতি-এই তিন সূচকের ভিত্তিতে এসব প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান অবসায়নে সরকারের ৯ হাজার কোটি টাকা গচ্চার আশঙ্কা আছে।

বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এফএএস ফাইন্যান্সের মোট ঋণের ১৮১৪ কোটি টাকা বা ৯৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ খেলাপি। ক্রমপুঞ্জীভূত লোকসান ১৭১৯ কোটি টাকা। ফারইস্ট ফাইন্যান্সের ৯৮ শতাংশ ঋণখেলাপি। এছাড়া লোকসান ১০১৭ কোটি টাকা। বিআইএফসির ৯৭ দশমিক ৩০ শতাংশ ঋণখেলাপি এবং লোকসান ১৪৮০ কোটি টাকা। ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ৩৯৭৫ কোটি টাকা ঋণের ৯৬ শতাংশ খেলাপি। ক্রমপুঞ্জীভূত লোকসান ৪২১৯ কোটি টাকা। পিপলস লিজিংয়ের ৯৫ শতাংশ খেলাপি, লোকসান ৪৬২৮ কোটি টাকা। আভিভা ফাইন্যান্সের ২৪৩০ কোটি টাকা বা ৮৩ শতাংশ খেলাপি। লোকসান ৩৮০৩ কোটি টাকা। প্রিমিয়ার লিজিংয়ের ৯৮৪ কোটি টাকা বা ৭৫ শতাংশ খেলাপি, লোকসান ৯৪১ কোটি টাকা। জিএসপি ফাইন্যান্সের ৫১৫ কোটি টাকা বা ৫৯ শতাংশ খেলাপি, লোকসান ৩৩৯ কোটি টাকা। এছাড়া প্রাইম ফাইন্যান্সের ৫৩৪ কোটি টাকা বা ৭৮ শতাংশ ঋণখেলাপি। ক্রমপুঞ্জীভূত লোকসান ৩৫১ কোটি টাকা।

জানতে চাইলে সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শফিকুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, এটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। শুধু কমিশন বাণিজ্য নয়, উচ্চ সুদের প্রলোভনের পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাবান ব্যক্তিরাও এফডিআর পেতে প্রভাব বিস্তার করতেন। বিশেষ করে তৎকালীন ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর ও এস আলমের প্রভাব বিস্তারের কথা সবাই জানে।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাধারণত রাজনৈতিক প্রভাব, কমিশন বাণিজ্য ও উচ্চ সুদের লোভে দুর্বল ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এফডিআর রাখা হয়। এটাই এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে এসব প্রতিষ্ঠান নিজে ডুবছে, অন্যকেও ডুবাচ্ছে। দুর্নীতি না থামালে এমনটি হতেই থাকবে-আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের। কেউ কেউ বলছেন, এফডিআরের টাকা কোথায় রাখবে বা রাখবে না, এ সংক্রন্ত একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকা দরকার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান যুগান্তরকে বলেন, কোন প্রতিষ্ঠান কোথায় টাকা রাখবে, সেটা তাদের নিজস্ব বিজনেস পলিসি। এখানে নীতিমালার চেয়ে মূল সমস্যা দুর্নীতি। দুর্নীতি বন্ধ না হলে এসব সমস্যার সমাধান হবে না।

 

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কলকাতায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের তোপের মুখে মোশাররফ করিম দম্পতি, যা বললেন অভিনেতা

আর্জেন্টিনার হয়ে ২০০ ম্যাচ খেলার ইতিহাস গড়বেন ফুটবলের জাদুকর মেসি

ফের সন্তানের প্রত্যাশায় নেইমার, বাড়ছে বিশ্বকাপে না ফেরার আশঙ্কা

মার্কিন-ইরান চুক্তি মানতে আমরা বাধ্য নয়- ইসরায়েলি মন্ত্রী

হাসনাতকে ডিম নিক্ষেপের ঘটনায় তিনজনকে আটক করলো লন্ডন পুলিশ

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই ৫ গোল হজম, চাকরি হারালেন হেড কোচ

কুষ্টিয়া ভেড়ামারার থানা পুলিশের অভিযানে অস্ত্র ও গুলি সহ সন্ত্রাসী সওদাগর আটক

অনুমোদন মেলেনি ভারতের, নেপাল থেকে বাংলাদেশে আসছে না বাড়তি বিদ্যুৎ

আব্বাস আরাগচির বিরুদ্ধে ইরানে বিক্ষোভ

কুষ্টিয়ায় আ’লীগের বিরুদ্ধে অবৈধ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার দাবিতে দুইটি মশাল মিছিলের ভিডিও ভাইরাল

১০

রুশ অর্থনীতিতে ইউক্রেনীয় হামলার ধাক্কা, ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার করলো পুতিন

১১

সপ্তম মিনিটেই এগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, হলো দ্রুততম গোলের রেকর্ড

১২

ইরানের জব্দ করা কয়েক বিলিয়ন ডলার ছাড় দিচ্ছে আমিরাত

১৩

বাজেটে ছাড়, বাজারে স্বস্তির অপেক্ষায় ভোক্তা

১৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের রোগীদের জন্য ৬ সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার নির্দেশ

১৫

টেক্সাসে বন্দুকধারীর এলোপাতাড়ি গুলিতে নিহত ১, আহত ১১

১৬

গণসংস্কৃতি পরিষদ খুলনা বিভাগীয় প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পেলেন কুষ্টিয়ার এসএম সবুজ

১৭

চলে গেলেন বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার

১৮

বিশ্বকাপে নামার আগে আর্জেন্টিনা শিবিরে দুঃসংবাদ

১৯

বাজেটের প্রভাব নেই সবজির বাজারে

২০