দেশে বর্তমানে সরকারি খাদ্য গুদামে ২২ লাখ ১০ হাজার টন খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে নিজ মন্ত্রণালয়ের গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
উপদেষ্টা জানান, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সে লক্ষ্যেই গুদামগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণ খাদ্যশস্যের মজুত রাখা হয়েছে। বর্তমানে যে পরিমাণ মজুত রয়েছে তা আপৎকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় যথেষ্ট বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই ব্রিফিংয়ে আলী ইমাম মজুমদার মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য অগ্রগতি নিয়েও আলোকপাত করেন। জানুয়ারিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ও খাদ্যপণ্যের দাম নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে কিছুটা অস্বস্তি থাকলেও সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের ফলে খাদ্য সরবরাহ চেইন স্থিতিশীল রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। উপদেষ্টা আশ্বস্ত করেন, মজুত পরিস্থিতি সন্তোষজনক হওয়ায় বাজারে কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট তৈরির সুযোগ নেই এবং সরকার নিয়মিতভাবে বাজার মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
খাদ্যশস্যের মজুতের পাশাপাশি ভূমিসেবা ডিজিটালাইজেশন প্রসঙ্গেও কথা বলেন উপদেষ্টা। তিনি স্বীকার করেন যে, ভূমিসেবা পুরোপুরি ডিজিটাল করার জন্য সর্বোচ্চ পর্যায়ের চেষ্টা চালানো হলেও এখনো শতভাগ সফলতা অর্জন সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমানে ভূমি অফিসের সনাতন হয়রানি অনেকটাই কমে এসেছে এবং নাগরিকরা ঘরে বসেই প্রযুক্তির সহায়তায় জমির নকশা ও খতিয়ানসহ জমিজমা সংক্রান্ত যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করতে পারছেন। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের এই সুবিধা সাধারণ মানুষের সময় ও ভোগান্তি সাশ্রয় করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আলোচনার শেষ পর্যায়ে তিনি বলেন যে, খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং প্রশাসনিক সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। বিশেষ করে ডিজিটাল ভূমিসেবা ব্যবস্থাকে আরও ত্রুটিমুক্ত ও জনবান্ধব করার কাজ চলমান রয়েছে। উপদেষ্টা মনে করেন, সরকারি গুদামে এই বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্যের মজুত কেবল অভ্যন্তরীণ চাহিদাই মেটাবে না, বরং যেকোনো বৈশ্বিক মন্দা বা দুর্যোগকালীন পরিস্থিতিতে দেশের মানুষের জন্য সুরক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে।
মন্তব্য করুন