ফেনীর ফুলগাজীতে ৩০ বছরের দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের অবসান ঘটালেন খাজুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিখা রানী কর। বিদায়ী এই শিক্ষককে বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গ্রামবাসী আয়োজন করল এক ব্যতিক্রমী সংবর্ধনা। বিদ্যালয়ের মাঠে ফুলেল শুভেচ্ছা, উপহার আর আবেগঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ সংবর্ধনায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও গ্রামের মানুষ অশ্রুসিক্ত বিদায় জানান তাকে।
সংবর্ধনা শেষে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা শিখা রানী করকে ফুলসজ্জিত গাড়িতে করে নিজ গ্রামের বাড়ি ফেনীর পরশুরাম উপজেলার তালবাড়িয়া পর্যন্ত পৌঁছে দেন। এমন সম্মানজনক আয়োজনকে অনেকেই বলছেন গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে একজন আদর্শ শিক্ষকের প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট প্রায় প্রতিটি পরিবারই বিদায়ী শিক্ষকের জন্য উপহার নিয়ে আসেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহরিয়া ইসলাম। তিনি বলেন, একজন শিক্ষকের জন্য এ ধরনের আয়োজন সত্যিই ব্যতিক্রমী। এটি প্রমাণ করে, শিক্ষক শুধু পাঠদানেই সীমাবদ্ধ নন, বরং তিনি সমাজের আলোকবর্তিকা।
সংবর্ধনা আয়োজক কমিটির সদস্য ইদ্রিস মজুমদার বলেন, ‘তিনি বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকে মানুষকে শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা বোঝাতেন। শিক্ষার পাশাপাশি গ্রামীণ উন্নয়নেও তার অবদান রয়েছে। তাই বিদায়ের সময় গ্রামের পক্ষ থেকে এই আয়োজন।
নিজ অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে শিখা রানী কর বলেন, ‘১৯৯৫ সালের ১ জুন দক্ষিণ গুথুমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করি। পরে খাজুরিয়া গ্রামের শিক্ষানুরাগী মাস্টার নাসির উদ্দিন আমাকে এখানে বদলি করিয়ে আনেন। গ্রামের মানুষকে আমি নিজের পরিবারের মতো মনে করেছি। শিক্ষার্থীদের স্নেহ আর শাসনের মধ্যে আগলে রেখেছি। আজ গ্রামবাসী যে সম্মান দিলেন, তা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য রহিম উদ্দিন মজুমদারের সঞ্চালনায় এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফিরোজ আহমেদ, উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কাশেম, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মুসলেহ উদ্দিন আহমদ, সাধারণ সম্পাদক আবু মুছা এবং পরশুরাম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি জহির উদ্দিন টিপু।
মন্তব্য করুন